প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 4, 2026 ইং
মহাকাশে বাড়ছে 'ই-আবর্জনা

পৃথিবীর চারপাশের মহাকাশে প্রতিদিনই বাড়ছে মনুষ্য সৃষ্ট বিপজ্জনক আবর্জনা। এই মহাকাশ আবর্জনা (ব্যবহৃত রকেটের অংশ, অকেজো স্যাটেলাইট ও ভাঙা যন্ত্রাংশ) এখন শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং মানব মহাকাশযাত্রার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ১৩ কোটি ছোট-বড় ধ্বংসাবশেষ দ্রুত গতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর অনেকগুলো রকেট বিস্ফোরণ, পরিত্যক্ত স্যাটেলাইট এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা মহাকাশযানের ফল। এসব বস্তু একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আরও নতুন আবর্জনা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘কেসলার সিনড্রোম’ (একটি সংঘর্ষ থেকে ধারাবাহিক সংঘর্ষ তৈরি হওয়া), যা প্রথম ব্যাখ্যা করা হয় ১৯৭৮ সালে।
গত ৫ নভেম্বর চীনের শেনঝৌ-২০ মহাকাশযানের নভোচারীরা যখন দেশটির স্পেস স্টেশন থেকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তারা যানের জানালায় ছোট ফাটল দেখতে পান। পরে জানা যায়, মহাকাশের অতি ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষের আঘাতেই এই ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে যানটি ফেরত পাঠানো স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে চীন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ২৫ নভেম্বর একটি মানববিহীন শেনঝৌ-২২ কার্গো যান পাঠায়। শেষ পর্যন্ত নভোচারীরা নিরাপদে শেনঝৌ-২১ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এটি চীনের স্পেস স্টেশনের ইতিহাসে প্রথম বিকল্প প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মহাকাশ আবর্জনা বিশেষজ্ঞ মরিবা জাহ বলেন, এই ঘটনা মহাকাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে। তার মতে, সঠিক তথ্য আদান-প্রদান, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ছাড়া ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাকাশ ব্যবস্থাপনায় এখনই সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ মহাকাশযাত্রা বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV